Posted on Leave a comment

মাগুরায় সংঘর্ষে নিহত ৪

মাগুরা সদর উপজেলার জগদল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে ২০ জন।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে ওই ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী নজরুল ইসলাম ও সৈয়দ হাসানের সমর্থকদের মধ্যে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন রহমান মোল্লা (৫৫), সবুর মোল্লা (৫২), কবির মোল্লা (৫০) ও ইমরান হোসেন (২৫)। নিহত সবুর মোল্লা ও কবির মোল্লা দুই ভাই। সবুর মোল্লাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। সবুর মোল্লা এলাকায় একটি সামাজিক সংগঠনের নেতৃত্ব দিতেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১১ নভেম্বর জগদল ইউপির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য নজরুল ইসলাম এবারও প্রার্থী হয়েছেন। এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে তাঁর সঙ্গে আগে থেকেই শত্রুতা চলে আসছে স্থানীয় সবুর মোল্লার। ওই ওয়ার্ডের সদস্য পদে সবুর মোল্লা তাঁর ঘনিষ্ঠ সৈয়দ হাসানকে প্রার্থী করেন। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সন্ধ্যায় জগদল মাঝিপাড়া এলাকায় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ওই চারজন নিহত ও ২০ জন আহত হয়। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে শুধু ইমরান হোসেন নজরুল ইসলামের সমর্থক। রহমান মোল্লা, সবুর মোল্লা, কবির মোল্লা সৈয়দ হাসানের সমর্থক।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে নবির হোসেন (৩৫), রফিকুল্লাহ (৩৪), মনিরুল (৩০), জহুর মোল্লা (৪৫), ওলিয়ার (৫৫) ও শুভ মোল্লাকে (৩০) মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত সবুর মোল্লার স্ত্রী মিরিনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘নজরুল আমার স্বামীরে বাড়িত্তে ডাকে নিয়ে জবাই করে হত্যা করেছে। সে আগে বিএনপি করত। ১২ বছর আগে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে এলাকায় খুনখারাবি করে বেড়াচ্ছে।’ সবুর মোল্লার ছেলে শাকিল মোল্লা বলেন, ‘আমার আব্বারে নজরুল আমার  চোখের সামনে জবাই করে খুন করিছে।’

যোগাযোগ করা হলে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ও সৈয়দ হাসান দুজনই দীর্ঘদিন একসঙ্গে ছিলাম। সৈয়দ হাসান নিজে মেম্বার প্রার্থী হওয়ার পর সবুর মোল্লার দলে যোগ দিয়ে আমার লোকদের বিভিন্ন সময় মারধর করছেন। অনেককে মেরে পঙ্গু করে দিয়েছেন। আজ (শুক্রবার) সবুর মোল্লা লোকজন নিয়ে আমার লোকদের ওপর হামলা করেন। আমার লোকজন হামলার প্রতিরোধ করতে গেলে এই ঘটনা ঘটে।’

জগদল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান বলেন, নজরুলের সঙ্গে সবুর মোল্লার দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। স্থানীয়ভাবে বেশ কয়েকবার সালিস বৈঠক হয়েছে। ইউপি নির্বাচন নিয়ে আবার নতুন করে শত্রুতা দানা বাঁধে। এর জেরে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটল।

জগদল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, এক মাস আগে মাগুরা সদর থানায় নজরুল ইসলাম ও সবুর মোল্লাকে ডেকে নিয়ে সালিস বৈঠক করা হয়। সেখানে দুই পক্ষই কোনো সহিংসতায় জড়াবে না মর্মে মুচলেকা দিয়েছিল; কিন্তু তারা কথা রাখেনি।

এদিকে আহতদের বিষয়ে খোঁজখবর নিতে মাগুরা জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম ও পুলিশ সুপার (এসপি) জহিরুল ইসলাম মাগুরা ২৫০ শয্যার হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন।

এসপি জহিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

সোর্স: এখানে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *